ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে চীনের সহায়তা প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীনের কোনো সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সময় তিনি এ বক্তব্য দিলেন, যখন তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে ইরান।

বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগদানের আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন,
“ইরান বিষয়ে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। শান্তিপূর্ণ উপায়ে হোক কিংবা অন্যভাবে, শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ী হব।”

বর্তমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বিষয়ে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য দেশও এখন ইরানের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির পথ খুঁজছে। এতে করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক নৌযানের ওপর কোনো দেশের শুল্ক বা টোল আরোপ করা উচিত নয়।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেল ক্রেতা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং।

আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের মধ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে তেহরানকে রাজি করাতে চীনের ভূমিকা চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে একক নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মে দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

1

জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল প্রায় ১৬ টাকা

2

মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন থালাপতির প্রার্থী

3

ফুটবলার ম্যারাডোনার মৃত্যুতে নতুন রহস্য

4

কথায় কথায় কসম ও কাফফারার বিধান

5

বিশ্বকাপ খেলে ২৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে কেপ ভার্দে

6

বাজেটে ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য

7

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার আহ্বান মাখোঁর

8

বনানীর বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ফায়ার ইউনিট

9

যশোর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

10

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোল মেক্সিকোর

11

এমবাপ্পের জোড়া গোল, সুইডেনকে গুঁড়িয়ে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

12

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বাড়ছ

13

বিজেপি সভাপতিকে চিঠি দিলেন তারেক রহমান

14

হরমুজে মার্কিন অভিযান স্থগিত করলেন ট্রাম্প

15

দক্ষিণ কোরিয়ায় চীন–যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক

16

মতিঝিলে গ্রেফতার ২৮ মামলার আসামি ‘বোমা বিদ্যুৎ’

17

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়েও চীনে বড় সাফল্য পেলেন না ট্রাম্

18

নেতানিয়াহুকে বদ্ধ পাগল ও অকৃতজ্ঞ বললেন ট্রাম্প

19

কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চারে আর্জেন্টাইনরা

20