ইয়েমেন সংকট নিয়ে ইরানের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার সংঘাতের অবসানে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাকায়ি ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সংকট সমাধানে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে।
ইরানের এই মুখপাত্র আরও জানান, সংঘাতের অবসানে সহায়তা করতে তেহরান সব সময় আন্তরিক উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেন—উভয় পক্ষ অনুরোধ জানালে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান তার সক্ষমতা কাজে লাগাতে রাজি আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়েমেন সংঘাতের গত এক দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাকায়ি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ, সামরিক অভিযান এবং অবরোধের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গত ১২ বছরের ঘটনাপ্রবাহই এ বাস্তবতা সামনে এনেছে।
বাকায়ির বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের জনগণ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরোধের নানা পরিণতি মোকাবিলা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা ধৈর্যের সঙ্গে এ পরিস্থিতি সহ্য করে আসছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের এই মুখপাত্রের অভিযোগ, অবরোধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আঞ্চলিক শক্তির বাইরের কয়েকটি পক্ষের ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ।
ইয়েমেন পরিস্থিতির উন্নয়নে আঞ্চলিক দেশগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাকায়ি। তাঁর মতে, সংঘাতের অবসান এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ প্রতিষ্ঠা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। সামরিক সংঘাত ও অবরোধের পরিবর্তে আলোচনাভিত্তিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ইয়েমেন সংকট নিয়ে ইরানের এই বক্তব্যে কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর দেশটির জোর দেওয়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান, আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর।
মন্তব্য করুন