বাবা দিবস ঘিরে নিজের জীবনের সবচেয়ে আবেগময় স্মৃতিগুলো তুলে ধরেছেন মিজানুর রাকিব। প্রয়াত বাবা মো. সোহরাব হোসেনকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন ভালোবাসা, শাসন, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক অনন্য গল্প, যেখানে একজন সেনাসদস্য বাবার কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. সোহরাব হোসেন ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও মানবিক একজন মানুষ। শৈশবের স্মৃতিচারণে লেখক জানান, যশোর ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়ার সময় বাবা প্রতিদিন সাইকেলে করে তাকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। অনেক সময় সাইকেলের পেছনে বসেই ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। তখন এক হাতে সাইকেল চালিয়ে অন্য হাতে ছেলেকে আগলে রাখতেন বাবা।
বাবার সেনাবাহিনীর পোশাকের গন্ধ, নিরাপত্তার অনুভূতি এবং স্নেহময় উপস্থিতি আজও তার স্মৃতিতে অমলিন। সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন, বাবার কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল গভীর ভালোবাসা এবং সন্তানদের সঠিক পথে গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা।
শৈশবে একবার বাবার শাসনে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি লঞ্চে উঠেও পড়েছিলেন। তবে ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়ায় ফিরে আসেন। পরে বুঝতে পারেন, পরিবারের প্রতি টান এবং বাবার অদৃশ্য ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে এনেছিল।
১৯৮৪ সালের একটি ঘটনার কথাও স্মরণ করেছেন মিজানুর রাকিব। বাবার সঙ্গে শরণখোলা থেকে ঢাকায় আসার পথে হরতালের কারণে দীর্ঘ পথ হেঁটে মিরপুরে আত্মীয়ের বাসায় পৌঁছাতে হয়েছিল। প্রায় নয় ঘণ্টার সেই পথচলায় বাবার সঙ্গে অসংখ্য গল্প, উপদেশ ও জীবনের শিক্ষা আজও তার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
তিনি জানান, তার বাবা ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও মানবিক একজন মানুষ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভালোবাসা প্রকাশে সংযত হলেও কাজের মধ্য দিয়ে তিনি পরিবারের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করতেন।
২০১৯ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. সোহরাব হোসেন। বাবার শেষ সময়ে পাশে থাকার সুযোগকে জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন তার ছেলে।
মৃত্যুর আগে বাবার শেষবারের মতো নাম ধরে ডাকার স্মৃতি এখনও তাকে আবেগাপ্লুত করে। সেই ডাক, সেই স্মৃতি এবং বাবার শেখানো মূল্যবোধই আজও তার জীবনের পথচলার অনুপ্রেরণা।
বাবাকে স্মরণ করে মিজানুর রাকিব বলেন, পৃথিবীর কোনো ভালোবাসাই বাবার ভালোবাসার সমান নয়। তার কাছে বাবা ছিলেন সাহস, নিরাপত্তা এবং জীবনের প্রথম নায়ক। আজও প্রতিটি স্মৃতি, প্রার্থনা ও অনুভূতির মধ্যে তিনি তার বাবাকে খুঁজে পান।
মন্তব্য করুন