ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আমার বাবা, আমার আজীবনের আশ্রয়

বাবা দিবসে মেয়ে নোরার সাথে বাবা সাদাত হোসাইন ছবি

বাবা দিবস ঘিরে নিজের জীবনের সবচেয়ে আবেগময় স্মৃতিগুলো তুলে ধরেছেন মিজানুর রাকিব। প্রয়াত বাবা মো. সোহরাব হোসেনকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন ভালোবাসা, শাসন, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক অনন্য গল্প, যেখানে একজন সেনাসদস্য বাবার কঠোরতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. সোহরাব হোসেন ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও মানবিক একজন মানুষ। শৈশবের স্মৃতিচারণে লেখক জানান, যশোর ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়ার সময় বাবা প্রতিদিন সাইকেলে করে তাকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। অনেক সময় সাইকেলের পেছনে বসেই ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। তখন এক হাতে সাইকেল চালিয়ে অন্য হাতে ছেলেকে আগলে রাখতেন বাবা।

বাবার সেনাবাহিনীর পোশাকের গন্ধ, নিরাপত্তার অনুভূতি এবং স্নেহময় উপস্থিতি আজও তার স্মৃতিতে অমলিন। সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন, বাবার কঠোর শাসনের আড়ালে ছিল গভীর ভালোবাসা এবং সন্তানদের সঠিক পথে গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা।

শৈশবে একবার বাবার শাসনে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি লঞ্চে উঠেও পড়েছিলেন। তবে ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়ায় ফিরে আসেন। পরে বুঝতে পারেন, পরিবারের প্রতি টান এবং বাবার অদৃশ্য ভালোবাসাই তাকে ফিরিয়ে এনেছিল।

১৯৮৪ সালের একটি ঘটনার কথাও স্মরণ করেছেন মিজানুর রাকিব। বাবার সঙ্গে শরণখোলা থেকে ঢাকায় আসার পথে হরতালের কারণে দীর্ঘ পথ হেঁটে মিরপুরে আত্মীয়ের বাসায় পৌঁছাতে হয়েছিল। প্রায় নয় ঘণ্টার সেই পথচলায় বাবার সঙ্গে অসংখ্য গল্প, উপদেশ ও জীবনের শিক্ষা আজও তার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

তিনি জানান, তার বাবা ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও মানবিক একজন মানুষ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভালোবাসা প্রকাশে সংযত হলেও কাজের মধ্য দিয়ে তিনি পরিবারের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করতেন।

২০১৯ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. সোহরাব হোসেন। বাবার শেষ সময়ে পাশে থাকার সুযোগকে জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন তার ছেলে।

মৃত্যুর আগে বাবার শেষবারের মতো নাম ধরে ডাকার স্মৃতি এখনও তাকে আবেগাপ্লুত করে। সেই ডাক, সেই স্মৃতি এবং বাবার শেখানো মূল্যবোধই আজও তার জীবনের পথচলার অনুপ্রেরণা।

বাবাকে স্মরণ করে মিজানুর রাকিব বলেন, পৃথিবীর কোনো ভালোবাসাই বাবার ভালোবাসার সমান নয়। তার কাছে বাবা ছিলেন সাহস, নিরাপত্তা এবং জীবনের প্রথম নায়ক। আজও প্রতিটি স্মৃতি, প্রার্থনা ও অনুভূতির মধ্যে তিনি তার বাবাকে খুঁজে পান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কলম্বিয়ার কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থ

1

মার্কিন অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ অপবাদ : উত্তর কোরিয়া

2

সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পেল সহায়তা

3

মাতাল অবস্থায় সিংহের খাঁচায় যুবক, তারপর যা ঘটল

4

২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে প্রায় ৩ কোটি টাকার টোল আদায়

5

আজ থেকে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর

6

গাজায় প্রতিদিন গড়ে ৪৭ নারী ও কন্যাশিশু নিহত: জাতিসংঘ

7

মধ্যপ্রাচ্যকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়েছে সৌদি আরবের কৌশলী অবস্থ

8

ঋণ তুলে আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ালেন সুমন

9

কেটি পেরির বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু

10

তৃণমূলের শেষ, নাকি বিজেপির শুরু? জানা যাবে আজ

11

৪ মে থেকে শুরু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬

12

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

13

যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে সংঘর্ষ

14

ডিএমপিতে বড় রদবদল : ৫ এডিসিকে বদলি

15

দক্ষিণ সুদানে চরম খাদ্য সংকট, ৮০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে

16

জমি বিক্রি করে ৭ কিলোমিটার জার্মানির পতাকা বানালেন কৃষক

17

কথায় কথায় কসম ও কাফফারার বিধান

18

মন্তেশ্বরে বড় ব্যবধানে হারলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী

19

কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মায়ের ভিসা জটিলতা কাটাচ্ছে যুক্তরাষ্ট

20