আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। এই সফরকে সামনে রেখে টেস্ট দলের গঠন ও বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের শক্তিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। সফরটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বোলিং বিকল্প প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে দলটি।
ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাচক মার্কাস নর্থ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে হলে শুধু স্পিন মোকাবিলার প্রস্তুতি নিলেই চলবে না, বরং প্রতিপক্ষের পুরো বোলিং আক্রমণ বিবেচনায় রেখেই দল সাজাতে হবে। উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে তিনি বাংলাদেশের টেস্ট দলের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ এখন ভালো মানের একটি দল। তাদের দলে কার্যকর স্পিনারদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন ভালো পেসারও রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশে গিয়ে ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। নর্থের মতে, সেখানকার কন্ডিশনে কাজে লাগানোর মতো বিভিন্ন দক্ষতার খেলোয়াড় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলাই হবে তাদের লক্ষ্য।
স্পিন বোলিংয়ের বিকল্প বাড়ানোর পাশাপাশি দলের সামগ্রিক সক্ষমতা উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। নর্থের ভাষ্য অনুযায়ী, পেস বোলিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পর এবার স্পিন বিভাগেও পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। ইংল্যান্ডের স্পিন বোলিং বিভাগের দায়িত্বে রিচার্ড ডসনকে নিয়োগ দেওয়াকে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডসন একই সঙ্গে স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের নতুন সহকারী কোচদের একজন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। নর্থ মনে করেন, ভবিষ্যতের জন্য একাধিক মানসম্পন্ন স্পিনার তৈরি করা গেলে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং আক্রমণ সাজানো এবং সঠিক ভারসাম্য নির্ধারণ করা সহজ হবে।
ইংল্যান্ডের ২০২৬-২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকাতেও স্পিনারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন শোয়েব বশির ও রেহান আহমেদ। অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেভেলপমেন্ট চুক্তি পেয়েছেন ম্যাসন ক্রেন, জেমস কোলস এবং লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট। এসব খেলোয়াড়কে ঘিরেই স্পিন বিভাগে বিকল্প তৈরি ও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের মতো স্পিন-সহায়ক কন্ডিশনে সফরের সময় এই প্রস্তুতি বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞ স্পিনারদের ব্যবহার নিয়ে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক টেস্ট কৌশল ইতিমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রথম সিরিজে ইংল্যান্ড কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই মাঠে নেমেছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা ওই সিরিজে দলের স্পিনের দায়িত্ব সামলেছেন ড্যান লরেন্স ও জো রুট। ফলে শোয়েব বশিরকে একাদশের বাইরে থাকতে হয়। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ইংল্যান্ড প্রায় একই ধরনের দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের কন্ডিশনে এসে দলটি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই হবে দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনায় স্পিনারদের গুরুত্ব বাড়লেও অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা এখনই জোরালো নয়। ৩৫ বছর বয়সী লিচ ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁকে আর দেখা যায়নি। যদিও জাতীয় দলের বাইরে থেকেও কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের কার্যকারিতা ধরে রেখেছেন এই স্পিনার।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৯টি টেস্টে লিচের সংগ্রহ ১৪২ উইকেট। সমারসেটের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম বিভাগে গত দুই মৌসুমে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন। ওই সময়ে ২১.৭৩ গড়ে তাঁর শিকার ৮৮ উইকেট। এমন পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও আপাতত ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। লিচের দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কাস নর্থ জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের হয়ে লিচের পারফরম্যান্স সম্পর্কে তাঁরা জানেন। সমারসেটের হয়েও তিনি ভালো খেলছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ও ডেভেলপমেন্ট চুক্তির তালিকা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, বর্তমানে দলটি অন্য কিছু বিকল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
তবে ইংল্যান্ডের হয়ে লিচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ২০২৮ সালের শুরুর দিকে ভারত সফরে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। ভবিষ্যতে সেই সফর কিংবা অন্য কোনো সিরিজে অভিজ্ঞ এই স্পিনার আবার বিবেচনায় আসবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর পারফরম্যান্স ও দলের প্রয়োজনের ওপর। আপাতত ২০২৭ সালের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতিতে ইংল্যান্ডের প্রধান মনোযোগ থাকছে চুক্তিবদ্ধ স্পিনারদের উন্নয়ন, বোলিং আক্রমণের গভীরতা বৃদ্ধি এবং কন্ডিশন অনুযায়ী একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ টেস্ট দল গঠনের দিকে।
মন্তব্য করুন