সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, শামীম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আনুমানিক ২৪০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি শামীমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
পরে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে শামীমের বিরুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তাঁদের অভিযোগ, এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সত্যতা যাই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা আইনসম্মত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উসকানির অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
মন্তব্য করুন