ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পায়ের গোড়ালির ব্যথা: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

পায়ের গোড়ালির ব্যথা একটি সাধারণ হলেও বিরক্তিকর শারীরিক সমস্যা, যা হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমবার মাটিতে পা রাখার সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস।

পায়ের পাতার নিচের অংশে গোড়ালি থেকে সামনের দিকে বিস্তৃত একটি শক্ত তন্তুযুক্ত টিস্যু থাকে, যাকে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া বলা হয়। এই টিস্যুতে প্রদাহ তৈরি হলে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস দেখা দেয় এবং গোড়ালিতে ব্যথা শুরু হয়। তবে শুধু এ কারণেই নয়, গেঁটেবাত, অস্টিওমাইলাইটিস, স্পন্ডিলাইটিস, প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগ এবং কিছু বিপাকীয় সমস্যার কারণেও গোড়ালির ব্যথা হতে পারে।

সাধারণত দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে ব্যথা বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দেয়। খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা কিংবা অনুপযুক্ত জুতা ব্যবহারের কারণে অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে সকালে ব্যথা বেশি অনুভূত হলেও কিছুক্ষণ চলাফেরার পর তা কিছুটা কমে আসে।

চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে বা অন্যান্য পরীক্ষা করে ব্যথার কারণ নির্ণয় করেন। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ এসব রোগ গোড়ালির ব্যথাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। সঠিক জুতা ব্যবহার, হিল কুশন পরা এবং খালি পায়ে শক্ত মেঝেতে হাঁটা এড়িয়ে চলা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন, কারণ অতিরিক্ত ওজন গোড়ালির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ব্যথা বেশি থাকলে ভারী ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ কিছুদিন বন্ধ রাখা ভালো। ব্যথা কমে গেলে ধীরে ধীরে নিয়মিত ব্যায়ামে ফিরতে হবে।

এ ছাড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গোড়ালি ও পায়ের পাতায় হালকা ম্যাসাজ, কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখা এবং নিয়মিত স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায়। চেয়ারে বসে পায়ের নিচে নরম বল বা গরম পানিভর্তি বোতল গড়িয়ে নেওয়ার মতো সহজ ব্যায়ামও ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে গোড়ালির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ধীরে ধীরে বেড়ে গেলে তা অবহেলা না করে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিফাকে ‘চোর’ বলায় বিশ্বকাপ অ্যাক্রেডিটেশন হারালেন ধারাভাষ্য

1

সিরাজগঞ্জে বাসের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোভ্যান

2

খরচের চাপে দিশেহারা মানুষ

3

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: শিক্ষামন

4

ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, নয়তো ট্রাম্পের হাতে বিকল্প রয়

5

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু

6

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

7

হাসপাতালের শৌচাগার দেখে মন্ত্রী বললেন, ‘হারপিক নিয়ে আসেন, আম

8

নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কানাডা

9

ব্রাজিলকে বিদায় দেওয়া সেই গণক দেখলেন তার নিজের দেশের বিদায়

10

কম খেলেও ওজন বাড়ে কেন

11

নতুন গান নিয়ে ফিরছেন ঈশিতা

12

বিশ্বকাপে বিশ্ব অর্থনীতির জয়গান

13

এক্সের বিরুদ্ধে জরিমানা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার আদালত

14

বিয়ের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও নববধূ

15

গ্রিন কার্ড আবেদন নীতি বদলালো যুক্তরাষ্ট্র

16

ঢাকায় বৃষ্টি নেই, তাপমাত্রা অপরিবর্তিত

17

বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ করলেন রাশেদ প্রধান

18

ইরান অধিনায়ক তারেমিকে বিমানবন্দরে আটকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্

19

চীনের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দল

20