যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান আবারও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেল আবিব। ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ইসরাইলের জন্য নতুন নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করলে দেশটিতে আবারও হামলা চালানো হতে পারে বলে মনে করছেন ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসরাইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এ ক্ষয়ক্ষতির পর ইরান কীভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেছে ইসরাইল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর আগে সংঘাতের পর দ্রুত সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধারে ইরানের সক্ষমতা নিয়েও বিভিন্ন মূল্যায়ন সামনে এসেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু নির্ধারিত পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান। ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ইসরাইল জরুরি পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে, যা নির্বাচনী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
তবে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি কত দ্রুত এগোচ্ছে, তার ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে। নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক মূল্যায়নও হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের আগে আঞ্চলিক উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আগ্রহ থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করছে না ইসরাইল।
এ বিষয়ে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বদলে গেলে আত্মরক্ষার স্বার্থে ইসরাইলকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। সে ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অর্থাৎ, ইসরাইল আপাতত সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইলেও ইরানের সামরিক তৎপরতা দেশটির নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার আকস্মিক ও সংক্ষিপ্ত সফরে ইসরাইল যান। দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা জোরদার হওয়ার সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান শমুয়েল বেন এজরা এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, হেগসেথের সফরের সময় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় নতুন করে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়ে থাকতে পারে। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
সফরের আগে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এমনকি হেগসেথের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিও জানানো হয়নি।
জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা তেল আবিবের কিরিয়া সামরিক সদর দপ্তরের পরিবর্তে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের স্থানটিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের তৎপরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে ইসরাইল শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাবে কি না, তা নির্ভর করছে ইরানের প্রস্তুতি এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরবর্তী মূল্যায়নের ওপর।
মন্তব্য করুন