অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধেই স্থায়ী সদস্যদের আপত্তি

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ভেটোর শঙ্কা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে থাকা সাত প্রার্থীর প্রত্যেকেই নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত একজন স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে ‘অনুৎসাহিত’ ভোট পেয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটের ফল সম্পর্কে এক কূটনীতিক এ তথ্য জানিয়েছেন। স্থায়ী সদস্যদের এমন অবস্থানকে সম্ভাব্য ভেটোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের ভোটে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ভোট আলাদা করে শনাক্ত করার জন্য রঙিন কাঠি ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্য আগের মতোই সাধারণ কাঠি ব্যবহার করেন। ভোটটি গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কোন দেশ কোন প্রার্থীকে কী ভোট দিয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবারও প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। তিনি নয়টি ‘সমর্থন’, পাঁচটি ‘অনুৎসাহিত’ এবং একটি ‘মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া পাঁচটি অনুৎসাহিত ভোটের মধ্যে দুটি এসেছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের কাছ থেকে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেলেও তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সাত প্রার্থীর কাউকেই এখন পর্যন্ত সমর্থনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি ওয়াশিংটন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শুক্রবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই জানিয়েছে, তাদের প্রয়োজন সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী।

নতুন কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ বলেন, কোনো দেশ নতুন প্রার্থী দিতে চাইলে সেটি তাদের সার্বভৌম অধিকার।

কূটনৈতিক মহলে সম্ভাব্য নতুন প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গাজা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ। এ ছাড়া ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মহাসচিব তুরস্কের ফেরিদুন হাদি সিনিরলিওগলুর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

তবে নতুন প্রার্থী যুক্ত হবেন কি না, কিংবা বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে কারও পক্ষে স্থায়ী সদস্যদের সমর্থন আদায় করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কারা রয়েছেন মহাসচিব পদের প্রতিযোগিতায়?

গ্রিনস্প্যান ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গায়ানার জাতিসংঘ দূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুনু।

আগের পাঁচ দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটেও গ্রিনস্প্যান শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন। ষষ্ঠ দফায়ও তিনি সর্বোচ্চ সমর্থন ধরে রেখেছেন। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের বিরোধিতার কারণে তাঁর পক্ষে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত নয়। অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধা রয়েছে।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি দায়িত্ব ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন প্রার্থী বেছে নিতে হবে।

কীভাবে নির্বাচিত হন জাতিসংঘের মহাসচিব?

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়টি ইতিবাচক ভোট পেতে হয় কোনো প্রার্থীকে। পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার কোনো একটির ভেটো থাকলে সেই প্রার্থীর মনোনয়ন আটকে যেতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদ কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ করলে তাঁর নাম চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। ফলে পরিষদের সমর্থন ও স্থায়ী সদস্যদের আপত্তি এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা—দুটিই নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে গোপন অনানুষ্ঠানিক ভোট নেওয়া হয়। এতে সদস্যরা প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে তিন ধরনের মত দেন—‘সমর্থন’, ‘অনুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’। এ ভোট আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত নির্বাচন নয়; বরং কোন প্রার্থীর পক্ষে কতটা সমর্থন রয়েছে এবং কার বিরুদ্ধে আপত্তি আছে, তা বোঝার একটি পদ্ধতি।

অতীতে প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক ভেটোর কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক ভোটের পদ্ধতি চালু হয়। প্রক্রিয়াটি নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতির সমালোচনা থাকলেও মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আঞ্চলিক পালাবদলের রীতি এবারও আলোচনায়

জাতিসংঘের মহাসচিব পদ বণ্টনে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের পালাক্রমে সুযোগ দেওয়ার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। সেই রীতি অনুযায়ী, এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে প্রার্থী নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। বর্তমান প্রতিযোগীদের মধ্যে এ অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

তবে আঞ্চলিক রীতি থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন ও স্থায়ী সদস্যদের অবস্থানের ওপর। সাত প্রার্থীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অন্তত একজন স্থায়ী সদস্যের অনুৎসাহিত ভোট পাওয়ার তথ্য নতুন মহাসচিব নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিচার চাই না জবাব চাই, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে: অপ্রতীমের

1

মেসির সঙ্গে কাঁদলেন স্কালোনিও

2

আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপে সিমিনের রেহাই

3

‘আজ রাতেই’ ইরানের জবাব পেতে পারেন ট্রাম্প

4

জার্মানিকে স্তব্ধ করে দিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

5

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর বাড়ছে নির্ভরতা

6

এমবোলোর সেই লাল কার্ডের নেপথ্যে যে নিয়ম

7

নেতানিয়াহুকে বদ্ধ পাগল ও অকৃতজ্ঞ বললেন ট্রাম্প

8

বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ, এবার নতুন মিশনে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

9

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্

10

চাপ আমাদের নয়, চাপ রয়েছে আর্জেন্টিনার ওপর: মার্ক গেহি

11

বিশ্বকাপে লাল কার্ড খাওয়ার রেকর্ডে শীর্ষে ব্রাজিল

12

তাইওয়ানে চীনের গুপ্তচরবৃত্তি

13

পানামাকে হারিয়ে আশা বাঁচাল ক্রোয়েশিয়া

14

কান্না থেকে কিংবদন্তি: আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির মহাকাব্যি

15

আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আরেকটা বিয়ে করবে পরীমণি

16

কারা জিতবে বিশ্বকাপ শিরোপা, জানাল সুপারকম্পিউটার

17

তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট চরমে

18

সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত

19

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্রতর

20