অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অর্থনৈতিক সংকটে বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাষ্ট্র-চীন, বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় মিলছে আশ্বাস

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার ফাঁকে বুধবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে দেশ দুটি।

কর্মকর্তারা জানান, চীনের এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় ওয়াশিংটনের সমর্থনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন অনুদান ও বিশেষ সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। বৈঠক-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বাংলাদেশের এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিও বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা পাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেমন কিছু পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে আমরা আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছি।’

আগামী দুই থেকে তিন মাসে সহযোগিতায় অগ্রগতির আশা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মনে করছে, বাংলাদেশ বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পরিস্থিতির কারণে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে।

উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতার বিষয়ে আরও নিশ্চয়তা এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, প্রথাগত সার্বভৌম ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইকুইটি বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতায় যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কয়েকটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পৃথক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কারেও সময়সীমাভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে মোকাবিলা করছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সরকারের সংস্কার কৌশলের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে বলে তিনি জানান।

মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষার উদ্যোগ

অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়াকেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জানানো হয়েছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব কমাতে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগের তাগিদ আইএমএফের

দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।

বার্ষিক সভা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের উন্নত অর্থনীতি ও কয়েকটি উদীয়মান দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি এসব অঞ্চলের সামনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তরুণ জনগোষ্ঠীর এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যথাযথ বিনিয়োগ প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। শুধু বিদ্যমান চাকরি ধরে রাখার চেষ্টা না করে কর্মীদের নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলাও জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ, বাড়ছে ঝুঁকিও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল অর্থায়নের দ্রুত বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব প্রযুক্তির কারণে শ্রমবাজারে পরিবর্তন আসতে পারে এবং আয়বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।

সংস্থাটির মতে, প্রযুক্তির সুফল পেতে ডিজিটাল অবকাঠামো, টেকসই জ্বালানি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন নীতিমালা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুফল সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। প্রযুক্তির ফলে তৈরি হওয়া সুযোগ যেন নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর উপযোগী মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

আইএমএফের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর বিনিয়োগ করা গেলে তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। অন্যথায় জনমিতিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল অর্জনে পিছিয়ে পড়তে পারে।

রাজস্ব আয় বাড়ানো ও ঢালাও ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ আইএমএফের

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ঋণের চাপ সামাল দিতে কর ব্যবস্থার সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো ও ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করের আওতা সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের জন্য নির্দিষ্ট সহায়তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের তৃতীয় দিনে ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় উঠে আসে। এতে বক্তব্য দেন আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি। ব্রিফিংয়ে যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থিলেন পাভিস দেবাহাসাদিন।

আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকি সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছে বেশি পৌঁছায়। এ কারণে জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লে সবাইকে সমানভাবে ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে নিম্ন আয়ের মানুষ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সহযোগিতার আশ্বাস, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারকে সামনে রেখে সরকার এগোতে চাইছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া আর বাস্তবে অর্থায়ন ও বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। আগামী কয়েক মাসে আলোচনার ফলাফল, ঘোষিত উদ্যোগের বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাবই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাটির অণুজীব কীভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করে

1

টেলিফোনেই চলছে শান্তি আলোচনা: ট্রাম্প

2

১৮২ রানে থামলো নিউজিল্যান্ড

3

হাভার্টজের শেষের গোলে আর্সেনালের জয়

4

মরক্কোকে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

5

নিরাপত্তা চেয়ে ঢাবি শিক্ষক মোনামির জিডি

6

দেখে নিন আর্জেন্টিনার জয়ের খতিয়ান

7

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা রোমেরোকে দলে টানতে মরিয়া অ্যা

8

মেসি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার ইঙ্গিত হ্যারি

9

রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

10

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের যেসব পরামর্শ

11

টাঙ্গাইলে কৃষক সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

12

মেসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি

13

ট্রাম্পের বলরুম প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলার

14

‘ওদের আছে মেসি, আমাদের আছে সালাহ’

15

ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে সমর্থন হোয়াইট হাউসের

16

সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

17

ভারতীয়দের নিয়ে অপপ্রচারে কঠোর সিঙ্গাপুর

18

‘কবুল’ ছাড়াও যেসব শব্দে ইসলামে বিয়ে সম্পন্ন হতে পারে

19

টানা পাঁচ ম্যাচ উইকেটশূন্য বুমরাহ

20