বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। তবে মাঠের লড়াইয়ে হারের পরও বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা নিজের শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলটির প্রধান কোচ বুবিস্তা।
বিদায়ের বেদনার মাঝেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ১২০ মিনিটের কঠিন পরীক্ষা নিতে পারায় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত তিনি।
ফিফা র্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে আবির্ভূত হয়েছিল এক পরাশক্তি বধকারী ‘কালোন ঘোড়া’ হিসেবে।
নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসেই গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়েছিল তারা। নকআউট পর্বেও যার ব্যতিক্রম হয়নি; তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও সমানতালে লড়েছে এই দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও ৫৯ মিনিটে দুর্দান্তভাবে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনা আবারও লিড নিলেও ১০৩ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। অবশেষে ১১৩ মিনিটে মেসির এক কর্নার থেকে দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলবিসেলেস্তেদের স্নায়ুর পরীক্ষা নিয়েছে কেপ ভার্দে।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের আবহের কথা উল্লেখ করে কোচ বুবিস্তা বলেন, ‘ড্রেসিংরুম জুড়ে এখন কেবলই বিষাদের ছায়া। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার কারণে এবং জয়ের এত কাছাকাছি এসেও তা ছুঁতে না পারায় আমাদের মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কষ্টের মাঝেও খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাদের আরও পরিপক্ব করবে, সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আর এটা প্রমাণ করে যে, এই দলটার একটা প্রাণ আছে।’
আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে ১২০ মিনিট বুক চিতিয়ে লড়াই করাটাকে বিশাল অর্জন মনে করেন বুবিস্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। তারা মাঠে যে সাহসিকতা আর মর্যাদা দেখিয়েছে, তা অতুলনীয়। আর্জেন্টিনা কেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তা তারা আজ প্রমাণ করেছে। তবে আমিও বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, আমাদের ছেলেরা ম্যাচটি জেতার জন্য নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না অন্য কোনো দল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুই-দুটি গোল শোধ করে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পারত। এটাই আমাদের দলের চরিত্র এবং দক্ষতার প্রমাণ। তারা চরম বীরত্বের সাথে খেলেছে এবং নিজেদের খেলার সহজাত ধরণটা কখনোই হারিয়ে যেতে দেয়নি।’
বিশ্বকাপে আসার আগে ফুটবল বিশ্বে কেপ ভার্দেকে খুব বেশি মানুষ চিনত না। তবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের একটা শক্ত পরিচয় রেখে যাওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা পূরণ হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন এই কোচ।
বুবিস্তা বলেন, ‘শুধু ফুটবল খেলার চেয়েও বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দরবারে আমাদের নিজস্ব পরিচিতি তুলে ধরা। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যতদিন টিকে ছিলাম, বুক চিতিয়ে বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে চেয়েছি।’
সবশেষে দেশের ফুটবলারদের স্যালুট জানিয়ে বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা কোনো অন্যায় সুবিধা নেইনি, প্রতিপক্ষের সঙ্গে একদম সমান তালে লড়াই করেছি। আমাদের এই ছোট্ট দেশটার সামর্থ্য কতটুকু, তা ছেলেরা আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। এজন্য পুরো দেশেরই উচিত এই খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানো এবং তাদের নিয়ে গর্ব করা।’