নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালসহ নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলমগীর হোসেন দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাকচালকও রয়েছেন। তাঁর নাম আলমগীর হোসেন বলে জানানো হয়েছে। অন্য নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, আরপি পরিবহনের একটি বাস বরিশাল থেকে আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। অন্য হাসপাতালগুলোতেও আরও তিনজন মারা যান। এতে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল, নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাস-ট্রাকের সংঘর্ষের পর নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আশপাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনগুলো ভোগান্তিতে পড়ে।
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরানো এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
মন্তব্য করুন