বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সামরিক পদক্ষেপ বা যুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতিকে দমন করা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
পেজেশকিয়ান বলেন, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না। তবে দেশের ভেতরে বিভক্তি তৈরি হলে শত্রুপক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ পাবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলো মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি)। চলমান ইরান সংঘাতে এই বোমা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানেন—এমন একাধিক সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন কিংবা যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে এই শক্তিশালী বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেও সংশয় রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ চললেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতামূলক চুক্তির সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়নি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন দূরবর্তী ও অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন নতুন বিকল্প তুলে ধরছে। তবে এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হোয়াইট হাউসের সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়ে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তাদের মতে, যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা একাধিক বৈঠক করেছেন।
সূত্র: প্রেসটিভি, আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন