এটি ছিল দীপক আহুজার বহুদিনের একটি ইচ্ছা। ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে নেপাল গিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন তিনি।
কিন্তু হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধস তাদের জীবনের সবকিছু বদলে দেয়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীপক আহুজা ও তার স্ত্রী মধু আহুজা।
তারা দুজনই মার্কিন নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেনস অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে এই দম্পতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন। এটি ছিল তাদের বহুদিনের একটি স্বপ্ন।
ইশা স্যাক্রেড ওয়াকস অ্যান্ড ট্রেকার্স সোসাইটির এস৩ গ্রুপের সঙ্গে ভ্রমণের সময় তিব্বতের সাগায় তারা যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছান।
সেখানে দলের সঙ্গে সদগুরুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর দেশে ফেরার জন্য সীমান্তের দিকে দক্ষিণে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভয়াবহ আবহাওয়ার মুখে পড়েন। প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে তাদের ফেরার পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে গিয়েরং পোর্টের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় দীপক ও মধু আহুজার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই প্রবল বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য হিমবাহ-হ্রদের আকস্মিক জলধসের কারণে এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
বন্যার পানিতে রাস্তা ভেসে যায়। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দীপক ও মধুর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাবা-মায়ের সন্ধানে দুই মেয়ে
বাবা-মা সীমান্ত চৌকির চীনা অংশে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছেন তাদের দুই মেয়ে শ্রেয়া ও আশনা। বাবা-মায়ের সন্ধানে আন্তর্জাতিক দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি সেখানে থাকা উদ্ধারকারী দলের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগাচ্ছেন।
শ্রেয়া এনডিটিভিকে বলেন, ‘তারা কৈলাস যাত্রার শেষ পর্যায়ে ছিলেন এবং বাড়ি ফেরার জন্য সাগা থেকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’
ইশা ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে তারা তিব্বত-নেপাল সীমান্তে পৌঁছান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গিয়েরং পোর্টের সীমান্ত পারাপার অফিসে ছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বন্যা আঘাত হানে বলে জানা গেছে।’
বন্যার কিছুক্ষণ আগেও আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ ফিচারের মাধ্যমে বাবা-মায়ের অবস্থান জানতে পেরেছিলেন দুই বোন। কিন্তু বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অ্যাপটিতে তাদের অবস্থানের আর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে অবস্থানও আর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কীভাবে তারা বন্যার খবর জানতে পারেন, তা জানিয়ে আশনা আহুজা বলেন, ‘আমরা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে বন্যার খবর পাই। তারা ইশা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ছিলেন। পরে ফাউন্ডেশন ইমেইলের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।’
এটি ছিল দীপক আহুজার বহুদিনের একটি ইচ্ছা। ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে নেপাল গিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধস তাদের জীবনের সবকিছু বদলে দেয়। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীপক আহুজা ও তার স্ত্রী মধু আহুজা।
তারা দুজনই মার্কিন নাগরিক এবং ওভারসিজ সিটিজেনস অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে এই দম্পতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন। এটি ছিল তাদের বহুদিনের একটি স্বপ্ন।
ইশা স্যাক্রেড ওয়াকস অ্যান্ড ট্রেকার্স সোসাইটির এস৩ গ্রুপের সঙ্গে ভ্রমণের সময় তিব্বতের সাগায় তারা যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছান। সেখানে দলের সঙ্গে সদগুরুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর দেশে ফেরার জন্য সীমান্তের দিকে দক্ষিণে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভয়াবহ আবহাওয়ার মুখে পড়েন। প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে তাদের ফেরার পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে গিয়েরং পোর্টের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় দীপক ও মধু আহুজার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই প্রবল বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য হিমবাহ-হ্রদের আকস্মিক জলধসের কারণে এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে রাস্তা ভেসে যায়। বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দীপক ও মধুর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছিল বিশেষ একটি পারিবারিক সফর
দুই বোন জানান, এই ভ্রমণ শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, পরিবারের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি সফর। শ্রেয়া বলেন, ‘বাবার ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা কৈলাসে গিয়েছিলেন। এটি ছিল বাবার জীবনের অন্যতম একটি ইচ্ছা। ৬০ বছর বয়সে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তাঁরা খুবই আনন্দিত ছিলেন। জন্মদিন ছিল ৪ আগস্ট। তিনি চেয়েছিলেন, জন্মদিনের এই বিশেষ সময়টি কৈলাসে কাটাতে।’
নিখোঁজ হওয়ার আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের কথা স্মরণ করে দুই বোন জানান, বাবা-মা সদগুরুর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তাঁদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। সেই সময় তাঁরা কতটা আনন্দিত ছিলেন, সেটিও দুই বোনের মনে আছে।
বাবা-মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দুই বোন এনডিটিভির মাধ্যমে বলেন, ‘আমরা শুধু জানাতে চাই, আমরা বাবা-মাকে অনেক ভালোবাসি। অনেক মানুষ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সহযোগিতা করছেন। আমরা চাই, তারা শক্ত থাকুন। আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিস্থিতি থেকে বাবা-মা বেরিয়ে আসতে পারবেন। আমরা শুধু চাই, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুন।’
বাবা-মায়ের সন্ধানে দুই বোনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যাদের কাছে তাদের বাবা-মায়ের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সূত্র রয়েছে, তাদের দ্রুত যোগাযোগ করার আবেদন জানিয়েছেন।
দুই বোন জানান, এই ভ্রমণ শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, পরিবারের জন্যও এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি সফর। শ্রেয়া বলেন, ‘বাবার ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা কৈলাসে গিয়েছিলেন। এটি ছিল বাবার জীবনের অন্যতম একটি ইচ্ছা। ৬০ বছর বয়সে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তাঁরা খুবই আনন্দিত ছিলেন। জন্মদিন ছিল ৪ আগস্ট। তিনি চেয়েছিলেন, জন্মদিনের এই বিশেষ সময়টি কৈলাসে কাটাতে।’
নিখোঁজ হওয়ার আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের কথা স্মরণ করে দুই বোন জানান, বাবা-মা সদগুরুর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তাঁদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। সেই সময় তাঁরা কতটা আনন্দিত ছিলেন, সেটিও দুই বোনের মনে আছে।
বাবা-মায়ের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দুই বোন এনডিটিভির মাধ্যমে বলেন, ‘আমরা শুধু জানাতে চাই, আমরা বাবা-মাকে অনেক ভালোবাসি। অনেক মানুষ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সহযোগিতা করছেন। আমরা চাই, তারা শক্ত থাকুন। আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিস্থিতি থেকে বাবা-মা বেরিয়ে আসতে পারবেন। আমরা শুধু চাই, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুন।’
বাবা-মায়ের সন্ধানে দুই বোনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে যাদের কাছে তাদের বাবা-মায়ের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য বা সূত্র রয়েছে, তাদের দ্রুত যোগাযোগ করার আবেদন জানিয়েছেন।