বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট দেশ কেপ ভার্দে। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তারা। আর এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা, যিনি পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত সব সেভ করে স্পেনের আক্রমণভাগকে বারবার ব্যর্থ করে দেন।
ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। মিকেল ওইয়ারসাবাল, ফেরান তোরেস ও আইমেরিক লাপোর্তের মতো খেলোয়াড়রা একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। তার অসাধারণ গোলকিপিংয়ে কেপ ভার্দে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করে। ম্যাচে সাতটি সেভ করে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের স্বীকৃতিও পান।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার গল্প শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ চলাকালে ব্রাজিলের জনপ্রিয় স্পোর্টস স্ট্রিমার ক্যাসিমিরো মিগেল তার দর্শকদের ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তখন তার অনুসারী সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ফলোয়ার বৃদ্ধির গতি আরও বেড়ে যায় এবং এক রাতের ব্যবধানে তা ৪৯ লাখে পৌঁছায়।
ভোজিনহার পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। ফুটবল অঙ্গনে তিনি ‘ভোজিনহা’ নামেই পরিচিত। শৈশবে দাদা-দাদির স্নেহে বড় হওয়ার কারণে এই নামটি তার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনহা’ শব্দের অর্থ আদরের নাতি। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলছেন। এর আগে গিল ভিসেন্তে ও এএল লিমাসোলের জার্সিতেও মাঠ মাতিয়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভোজিনহা শুধু কেপ ভার্দের নায়কই হননি, বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ফুটবলারেও পরিণত হয়েছেন। মাঠের সাফল্য কীভাবে একজন খেলোয়াড়ের জীবন বদলে দিতে পারে, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন