রাজধানীর উত্তরায় বকেয়া বেতন পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালেও আজমপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। দীর্ঘ যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অনেককে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের মধ্যে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবি পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও প্রত্যাশিত সমাধান পাননি তারা। এ পরিস্থিতিতে দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, মজুরি বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ। এসব দাবিতে আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালেও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে রয়েছে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ। তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যাননি। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন কখন শেষ হবে এবং সড়কে যান চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অবরোধ অব্যাহত থাকলে উত্তরা ও বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন