অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চকবাজারে আগুন: ২৪ ঘণ্টা পরও নিভেনি আগুন, পুড়েছে গুদামের মালামাল

পুরান ঢাকার চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। ভবনটি থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের মার্কেট ও বেশ কয়েকটি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভবনের ভেতরে বিভিন্ন গুদামে আগুনের অবশিষ্ট অংশ ও ধোঁয়া থাকায় পুরোপুরি নেভানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুদামের মালামাল সরিয়ে সেখানে পানি দিচ্ছেন। সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করেছিল। পরে আগুন পুরোপুরি নেভানোর জন্য ছয়টি ইউনিট কাজ চালিয়ে যায়।

সাততলা ভবনের একাধিক তলায় আগুনের ক্ষতি

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুনসুর খান প্লাজা সাততলা ভবন। এর নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ব্যাগ, কসমেটিকস, ছাতা, আতর ও চার্জারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রয়েছে। প্রতি তলায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় প্রথম আগুন লাগে। এতে ওই তলার প্রায় সব গুদামের মালামাল পুড়ে যায়। সপ্তম তলার বেশির ভাগ গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন পঞ্চম তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন লাগার পর থেকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা এখনো তাঁদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারছেন না। আগুনে কত টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে বন্ধ আশপাশের মার্কেট

অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিটফোর্ড হাসপাতালমুখী সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ফলে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যেতে দেখা যায়। ভবনের নিচতলার কয়েকজন দোকানি নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে ওয়াসার পানিবাহী গাড়ি দিয়েও আগুন নেভানোর কাজে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

আগুনে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পণ্য হারানোর দাবি ব্যবসায়ীর

মুনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় এফ এম লেদার নামে একটি ব্যাগের গুদাম রয়েছে খোরশেদ আলমের। তিনি জানান, তাঁর গুদামে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

খোরশেদ আলম বলেন, আগুনের সময় কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। এখনো ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সেখান থেকে কিছু উদ্ধার করাও সম্ভব হয়নি। সব হারানোর পর পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় নেই। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিছু তো করার নেই, আল্লাহ ভরসা।’

চকবাজারের এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ভবনের ভেতরের পরিস্থিতি যাচাই করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আলজেরিয়া বাধা পেরিয়ে জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আর্জেন্টিনা

1

মেসিদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু আলজেরিয়ার বিপক্ষে

2

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

3

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

4

১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির উদ্বেগ

5

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

6

মেহেরপুরের গাংনীতে বোমা সদৃশ বস্তু ও রহস্যময় চিরকুট উদ্ধার

7

লটারিতে সুযোগ পেয়ে একসাথে হজে যাচ্ছেন তিন বোন

8

ট্রানজিট বাণিজ্যে ইরানকে বড় সুবিধা দিল পাকিস্তান

9

ছাগলচুরি আমার জীবনে অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা: আসিফ নজরুল

10

বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে বাংলাদেশে আগ্রহী জার্মানি

11

তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

12

বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা

13

শিক্ষা ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন: ডিসেম্বরেই এসএসসি ও এইচএসসি

14

স্ত্রী পাল্টাতে পারবেন, কিন্তু প্রতিবেশীকে পাল্টাতে পারবেন ন

15

ওদের ১ জন মেসি থাকলে আমাদের ২৬ জন মেসি আছে

16

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহীতে ১৩ দিন লোডশেডিং

17

‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখার মামলায় বাবা-ছেলে কারাগারে

18

ডিসি সম্মেলনে আসছে প্রায় ৫০০ প্রস্তাব

19

১৪ দফা প্রস্তাবে মার্কিন জবাব পর্যালোচনায় ইরান

20