চার বছর আগের শিরোপা জয়ের সেই অভূতপূর্ব আনন্দ এবার আক্ষেপে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
সোমবার সকালে বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জাতীয় দলকে বহনকারী বিমানটি। সেখানে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ডের সুর ও আনুষ্ঠানিক অভিবাদনের মধ্য দিয়ে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের বরণ করে নেওয়া হয়।
তবে পুরো দলটি একসাথে দেশে ফেরেনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগেই এক বার্তায় জানিয়েছিল যে, অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করবেন। এর ফলে বিমানবন্দরে ভক্তরা তাদের প্রাণপ্রিয় অধিনায়ককে দেখতে পাননি।
বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার সমর্থক বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের চারপাশ ভিড় জমান। নীল-সাদা পতাকা ও ছাতা হাতে তারা প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিরোপা জিততে না পারলেও টুর্নামেন্টজুড়ে আলবিসেলেস্তেদের অদম্য লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন দেশটির আপামর জনতা।
এদিকে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর রবিবার রাতে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরেও হাজারো মানুষের ঢল নামে। সমর্থকেরা আতশবাজি ফুটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। তবে উৎসবের আবহের মধ্যেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের সাথে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। আর্জেন্টাইন পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অপ্রীতিকর ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিন সরাসরি দেশে ফেরা ১৬ জন ফুটবলারের তালিকায় রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং গনসালো মন্টিয়েল। তাদের সাথে আরও ফিরেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ভ্যালেন্তিন বার্কো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, নিকো গনসালেস, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমেওনে এবং হোসে ম্যানুয়েল লোপেস। অন্যদিকে অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছাড়াও রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, জেরোনিমো রুলি, নিকোলাস পাস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নাহুয়েল মোলিনা ও হুয়ান মুসো এই মুহূর্তে সরাসরি দেশে ফেরেননি।