রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলেও একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবারের হামলার পর রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তুলেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার গোলাবর্ষণে রাজধানীতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় শহরের তিনটি জেলায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেসনিয়ানস্কি জেলায় একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ভবনটি থেকে ১৬ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এক শিশুসহ ২১ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হোলোসিভস্কি জেলায় একটি অনাবাসিক ভবনে হামলায় আরও একজন নিহত ও একজন আহত হন।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, হামলার কারণে দেশটিতে অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২৬টি স্থাপনা এবং তেল ও গ্যাস খাতের চারটি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের দেরহাচি শহরে একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের গ্যারেজে ড্রোন আঘাত হানলে পাঁচজন আহত হন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চল লক্ষ্য করে রাশিয়ার চালানো রাতের হামলায় ১২৮টি ড্রোনের মধ্যে ১১৫টি এবং ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে চারটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
জেলেনস্কি হামলাটিকে সুপরিকল্পিত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার ব্যাপকতা শক্তি প্রদর্শনের শামিল এবং রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক সরবরাহের অনুরোধ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলের যোগাযোগ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাতকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
হামলার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংঘাতের উত্তেজনা আবারও সামনে এসেছে।
মন্তব্য করুন