সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী এবং সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী।
এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে এ জন্য দাম্মাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি পাওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর ওই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে যাত্রীদের যথাসময়ে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক কাউসার মাহমুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার পাঁচটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট যথারীতি চলাচল করছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা এই দুটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন।
যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় মদিনা রুটে অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চালু রাখার কথা জানানো হয়েছে। ১৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে আগের মতো বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাম্মাম রুটে ২১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি এখনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে রিয়াদ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্তও পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
তাই যাত্রীদের ভ্রমণের আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন