ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শুভ জন্মদিন মেসি, সময়কে হার মানানো এক চিরতরুণ জাদুকর

অ্যাথলেটিক জীবনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ২৭ বছর বয়সকে ধরা হয় পারফরম্যান্সের শীর্ষ সময় হিসেবে। সেই বয়সে লিওনেল আন্দ্রেস মেসি বিশ্বকাপ ফাইনালের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের চাপ বহন করছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই গল্প বদলে গেছে।

যেখানে অধিকাংশ ফুটবলার ৩০-এর পর ধীরে ধীরে ফর্ম হারাতে শুরু করেন, সেখানে মেসির ক্যারিয়ার উল্টো পথে হেঁটেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও পরিণত, আরও কার্যকর এবং আরও সিদ্ধান্তক্ষম এক ফুটবলার হয়ে উঠেছেন।

বিখ্যাত সাহিত্যিক জে. আর. আর. টলকিনের চরিত্রের মতোই তার পরিবর্তনকে তুলনা করা যায়—যেন ধূসর গ্যান্ডালফ থেকে এক পরিপূর্ণ শ্বেত গ্যান্ডালফে রূপান্তর। ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত মেসি ছিলেন এক অনবরত চাপের মধ্যে থাকা যোদ্ধা, যিনি আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ভার বহন করতেন।

কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের পর তার ক্যারিয়ার নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। সেই টুর্নামেন্টে জয় শুধু একটি শিরোপা ছিল না, বরং ছিল দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

এরপর বার্সেলোনা ছাড়ার ঘটনা তার জীবনে এক বড় পরিবর্তন আনে। অনেকেই এটিকে ক্যারিয়ারের পতন মনে করলেও বাস্তবে এটি তাকে নতুনভাবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। প্যারিস এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে গিয়ে তিনি শারীরিক চাপ কমিয়ে নিজের খেলা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পান।

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলে মেসি যেন খুঁজে পান এক শান্ত পরিবেশ, যেখানে তার ওপর অতিরিক্ত চাপ নয়, বরং স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, তার ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন তিনি। বিশ্বকাপের বহু গুরুত্বপূর্ণ গোল এসেছে ৩৫ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর, যা ফুটবলের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

চলমান বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি আলাদা। পেনাল্টি মিসের মতো ভুলের পরও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

মাঠে তার আচরণ অনেক সময় সমালোচনার জন্ম দেয়—কেউ বলেন তিনি কম দৌড়ান, আবার কেউ বলেন তিনি কেবল সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু বাস্তবে সেটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি—ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এবং সঠিক মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

শৈশব থেকেই মেসির মধ্যে ছিল এক বিশেষ প্রতিভার ছাপ। তার মা একবার বলেছিলেন, ছোটবেলায় খেলার সময়েই সবাই বুঝেছিল সে অন্যদের চেয়ে আলাদা। সেই দুষ্টু, চঞ্চল ও প্রতিভাবান ছেলেটিই আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় নাম।

আজ ফুটবল বিশ্ব “পরবর্তী মেসি” খুঁজছে। কিন্তু তার মতো একজন খেলোয়াড়ের পুনরাবৃত্তি কতটা কঠিন, তা হয়তো ভবিষ্যতেই সবচেয়ে বেশি বোঝা যাবে।

৩৯ বছরে পা দিয়েও মেসি এখনো মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তার প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি পাস এবং প্রতিটি মুহূর্ত যেন ফুটবলের এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

সময়ের নিয়ম অনুযায়ী একদিন হয়তো তিনি বুটজোড়া তুলে রাখবেন। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত ফুটবল বিশ্ব উপভোগ করবে এক চলমান কিংবদন্তিকে—যিনি সময়ের নিয়মকে বারবার হার মানিয়ে চলেছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৮

1

একটি ছেলে ফোন করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে: নিহত আজমুলের বা

2

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

3

ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া লাইফ সাপোর্ট, দাবি ট্রাম্পের

4

প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

5

জবিতে ছাত্রলীগের অপতৎপরতার অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

6

নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া ব্যাংকের লকার থেকে টাকা লুট, আটক ২৯

7

লাখ টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ

8

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন

9

রিপাবলিকানদের বিরোধিতায় চাপে ট্রাম্প

10

ধনী হওয়ার উপায় জানানো লেখকের নিজেরই ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার

11

মুখে নয়, মাঠেই হবে লড়াই

12

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ জোন ঘোষণা

13

ঘটতে যাচ্ছে অবিশ্বাস্য ঘটনা, এমন কিছু আগে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব

14

ঈদের দিন ৫ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা

15

‘ইয়ামালকে আটকাতে হলে রুমে তালাবন্দি রাখতে হবে’— স্কালোনির রস

16

রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের ঐতিহাসিক জয়

17

এবার ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

18

ঈদে মাংসের ভিন্ন স্বাদের ৪ রেসিপি জেনে নিন

19

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: শিক্ষামন

20