অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানিসংকটে লোডশেডিং আরো বাড়বে

ছবি: সংগৃহীত



 দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ে মানুষের যন্ত্রণা চরম আকার ধারণ করেছে। বেশি ভুগছে গ্রামের মানুষ। গরম এভাবে চলতে থাকলে লোডশেডিং আরো বাড়বে। পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বলছে, সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১৭ থেকে সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এই চাহিদা আরো বাড়তে পারে। তাতে লোডশেডিংও আরো বাড়বে।

এদিকে বর্তমান চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদন গড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। এই বিপুল ঘাটতি সরকার জেলা ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে সমাধানের চেষ্টা করছে। এতে ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

এদিকে আগামী দেড়-দুই মাস কম বেশি লোডশেডিং থাকবে। বরং কখনো কখনো লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং জ্বালানি বিভাগের আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে এমন পূর্বাভাস মিলেছে।

বিদ্যুত্ বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল আমদানি, কয়লা আমদানি, এমনকি এলএনজি আমদানিতে সংকট রয়েছে। ফলে গ্রীষ্মকালীন কমবেশি লোডশেডিং থাকতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, উত্পাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট, লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট।

জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক আটটি বিদ্যুেকন্দ্রের মধ্যে ভারতে আদানি বিদ্যুেকন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ। তবে ২৬ এপ্রিল এটি উত্পাদনে ফিরতে পারে। এছাড়া বাঁশখালীতে এস আলমের এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিটে বিদ্যুিবভ্রাটের কারণে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কম আসছে। ২৮ এপ্রিল থেকে এটি পাওয়া যেতে পারে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ, যাতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। এছাড়া ভারসাম্য বজায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্য বিশেষ করে জ্বালানি তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানিতে কিছু সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সময়ে পুঞ্জীভূত বিপুল বকেয়া, লোকসান ও অর্থ পাচারের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। কারণ ইরান যুদ্ধের পরে সরকার তার নিয়মিত উত্স থেকে যে জ্বালানি তেল আমদানি করত সেটা বাদ দিয়ে বিকল্প  একাধিক উত্স থেকে আমদানি করছে। তবে সেক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র বা জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির চেয়ে অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড গ্রীষ্মে বিদ্যুত্ আমদানির যে পরিকল্পনা করেছে তাতে দেখা যায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুত্ আমদানি ও সরবরাহ করতে হলে সরকারের যে পরিমাণ অর্থ সংস্থান করতে হবে সেখানে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা কেটে ছোট করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল জ্বালানির কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো কম চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের মূলত লক্ষ্য কিছু গ্যাসভিত্তিক এবং সক্ষমতার পুরোটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনা করে বিদ্যুত্ সরবরাহ করে যাওয়া।

বিদ্যুত্ বিভাগ বলছে, গ্যাসচালিত বিদ্যুত্ সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে হলে দিনে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দরকার। যদি ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসও সরবরাহ করা হয়, তাহলে ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যেত। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। উত্পাদন খরচ সাশ্রয় করতেই বিদ্যুত্ উত্পাদনে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল কম ব্যবহার করা হয়।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় বিদ্যুত্ বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে। ভর্তুকির টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি শুধু বেসরকারি খাতের  রেন্টাল ও আইপিপি (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড বা বিদ্যুত্ বিভাগ আগে নিজেদের মতো করে যে অর্থ পরিশোধ করত সেটা বন্ধ করে দিয়ে বলা হয়েছে এক খাতের বা কেন্দ্রের ভর্তুকি অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।

পিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর ১০ মাসে বিদ্যুত্ খাতে উত্পাদন খরচ এবং বিক্রয় মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য, সেই কারণে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির মধ্যে পড়বে। সেই হিসাবও স্থির থাকবে না যদি ডলারের দাম বাড়ে বা জ্বালানি পণ্যের দাম আরো বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ভর্তুকির হিসাব আরো বাড়বে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ তেল গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে স্বাভাবিক হিসাবের চেয়ে আগামী তিন মাসে এলএনজি আমদানি করতে অতিরিক্ত খরচ বাড়বে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদি এলএনজির দাম আরো বাড়ে সেই খরচ বা ভর্তুকির হিসাব আরো বাড়বে। অর্থাত্ এই যুদ্ধের কারণে  জ্বালানি আমদানি করতে এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুত্ খাতে ভর্তুকি ছিল প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিডিবি ধারণা করছে, এটা প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা জ্বালানি পণ্যের দাম আরো বাড়লে ভর্তুকির পরিমাণ আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না:কাঠগড়ায় গাজী নজরুল

1

ব্রাজিল অতীতে ছিল, আমার চোখে এখন ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা শক্ত

2

এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা

3

নাম সরাতে কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল: সাক্ষাৎকারে সাকিব

4

সমুদ্রের বুকে মার্কিন জলদস্যুগিরি

5

শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন

6

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে শুরু হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ

7

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প

8

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপ ব্যর্থ হবে

9

ইউরোপে মার্কিন সেনা ব্রিগেড কমালো পেন্টাগন

10

হালান্ডের গোলে জিতল নরওয়ে, শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল

11

মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার

12

আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির

13

বিদায়ের পরও শান্তির বার্তা, হৃদয় ছুঁয়ে গেল ইরান

14

জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

15

যে ৫ শর্তে যুদ্ধ শেষ করবেন নেতানিয়াহু

16

বকেয়া টাকা চাওয়ায় কাঠমিস্ত্রিকে মারলেন অভিনেতা সোহম

17

ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণেই কি নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে হারল জার

18

সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকে

19

ইরান যুদ্ধের প্রভাব আমেরিকানদের অর্থনীতিতে পড়বে: আরাগচি

20