
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা, অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন প্রায় ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধও নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে জনমত জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না।
সিলভার বুলেটিনের ২১ অক্টোবরের আপডেট অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসনাল ব্যালটে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী পর্বে তাদের জন্য এটি ছিল সর্বোচ্চ ব্যবধান। <Cite refs={["turn160994search3","turn160994news39"]}/>
এই প্রবণতা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নীতি ও কাজের মূল্যায়ন করেন। তবে জাতীয় পর্যায়ের জরিপের ব্যবধান সরাসরি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের আসনসংখ্যায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর।
নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনে বিজ্ঞাপনের ব্যয় স্থগিত করে কানসাসে অর্থ সরিয়েছে রিপাবলিকানদের সমর্থক সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার প্যাক) সিনেট লিডারশিপ ফান্ড।
সেমাফোরের ২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির অবস্থান দুর্বল হওয়ায় সেখানে বিজ্ঞাপনের ব্যয় থামিয়ে কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। <Cite refs={["turn160994search0","turn160994search5"]}/>
এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, রিপাবলিকানরা শুধু নতুন আসন জয়ের চেষ্টা করছে না; বরং নিজেদের নিরাপদ বলে বিবেচিত কিছু আসন ধরে রাখতেও বাড়তি সম্পদ ব্যয় করছে।
জনমত জরিপে চাপ থাকলেও নির্বাচনী তহবিলের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে। ধনকুবের ইলন মাস্ক জুলাই থেকে রিপাবলিকানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। নির্বাচনী বিজ্ঞাপন, প্রচার কার্যক্রম এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমালোচনায় এই অর্থের বড় অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। <Cite refs={["turn160994news36","turn160994news37"]}/>
তবে অর্থের পরিমাণ বেশি হলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হয় না। ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের জন্য মিশিগান, টেক্সাস ও মেইনের মতো রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রাজ্যে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার, বিজ্ঞাপন এবং তহবিল সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ নজর কেড়েছে। একইভাবে মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের আসন ধরে রাখার প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। মিশিগানেও প্রার্থীদের অবস্থান ও নির্বাচনী প্রচারণার ওপর নজর রাখছে দুই দল।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এসব প্রচারণা ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি, অভিবাসননীতি এবং ইরান যুদ্ধ ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সাধারণ মানুষের ব্যয় বহনের সামর্থ্যকে প্রচারণার কেন্দ্রে রাখছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম ও দুর্নীতির অভিযোগও রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও তদারকি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে। তবে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করা এক বিষয় নয়; অপসারণের জন্য সংবিধাননির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
এই কারণেই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রশাসনের ওপর নজরদারির মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্প। তাঁর উপস্থিতি রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ থাকা ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় নিজেদের সমর্থকদের সক্রিয় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখা। বিপুল নির্বাচনী তহবিল তাদের প্রচারণায় সহায়তা করলেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।