
ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই হাজার কোটি ডলার জরিমানা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একজন বিচারক। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এ রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরোপিত বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে দায়ের করা মামলায় এ রায় এসেছে। তবে মেটা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
২০১৮ সালে ফেসবুক জানায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ করেছিল। এসব তথ্য রাজনৈতিক প্রচার ও ভোটারদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ২০২১ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবিলার নীতি নিয়েও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জুরিবোর্ডের রায়ে বলা হয়, ফেসবুক নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ বা অন্যায্য ব্যবসায়িক চর্চা আইনের প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লাখ বার লঙ্ঘন করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ, সুরক্ষা ও ভাগাভাগি করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
বুধবার বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করেন। আদালতের হিসাব অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য জরিমানার অঙ্ক আরও বেশি হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে নির্ধারণ করা হয়।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইন কর্মকর্তা সি. জে. মহোনি নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
মহোনির দাবি, মামলাটির মাধ্যমে অনলাইনে মানুষের মতপ্রকাশের ওপর একধরনের কর আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে। মেটা জানিয়েছে, তারা আপিলের মাধ্যমে রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে।
মেটার বিরুদ্ধে এই রায় এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। জরিমানার চূড়ান্ত আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে আপিলের ফলাফল ও অর্থ পরিশোধের বিষয়ে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্তের ওপর।
ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্কে নিউ মেক্সিকোর এই রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।