
দেশের পানির সংকট সমাধান এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়াতে দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খাল খননের ফলে কৃষকেরা সেচের পানি পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও সহায়তা হবে। উত্তরাঞ্চলকে দেশের শস্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে পানির সংকট রয়েছে, যা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও দেখা যায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তাঁর সময়ে বরেন্দ্র প্রকল্পও কার্যকর হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কিছু দলের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অবস্থানের সমালোচনা করেন।
দেশের কয়েকটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পলাতক সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছেন এবং দেশের ভেতরে কিছু ব্যক্তি অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এতে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনসহ অন্য নেতারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা।