
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক লাখ টাকা ও তিনটি খাসি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা।
এ ঘটনায় গত সোমবার কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোসলেম মোল্লা।
লিখিত অভিযোগে মোসলেম মোল্লা দাবি করেন, ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। এ ছাড়া তাঁকে তিনটি খাসিও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মোসলেম মোল্লার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকায় তিনি আর কমিটিতে পদ চাননি। এ কারণে দেওয়া টাকা ফেরত চেয়েছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন মোসলেম।
অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মোসলেম মোল্লা ও রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর কথোপকথন শোনা যায় বলে জানা গেছে। কথোপকথনে মোসলেমকে তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে শোনা যায়।
অডিওতে মোসলেম বলেন, ‘ছোডো ভাইয়ের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। কমিটির জন্য যে এক লাখ টাকা দিসিলাম, ৮০ হাজার–২০ হাজার—এই ট্যাকাডা আরকি! এহন আমি থাকবো না, আর কী হরমু কন।’
জবাবে রমিজ উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনে অপেক্ষা করেন, কমিটি হইলে কমিটিতে নাম থাকবে তো। এমন তো না যে, না করছি।’
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির সত্যতা ও কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে দলীয় ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও যাচাই-বাছাই করা হবে।
আবুল হাশেমের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন অভিযোগের সত্যতা, ছড়িয়ে পড়া অডিওর নির্ভরযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে জেলা বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।