
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে বাধাগ্রস্ত করবে। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
শনিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, সরকারের হাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সফল হতে পারে না। তাঁর ভাষায়, জনগণের সমর্থন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়নি। দলটির অবস্থান হলো, বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির সদস্যসচিব। তাঁর অভিযোগ, সরকার সংস্কার বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগগুলো থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।
আখতার হোসেন ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই সময়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে তাঁদের মূল্যায়ন। তাঁর আশঙ্কা, জুলাইয়ের সংস্কার উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে সরকারের প্রতি তাঁদের আহ্বান—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক।
আখতার হোসেনের মতে, বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ সুগম করা জরুরি। সরকার এ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে জনগণ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি একদিকে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে সংস্কারের অগ্রগতি পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি দাবি করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলো থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোনো জবাব দেওয়া হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ নেই।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, কমিটিটি একদলীয় হওয়ায় এর মাধ্যমে সাংবিধানিক সংকটের সমাধান হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্য, জুলাই সনদের লক্ষ্য অনুযায়ী সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তন আনতে হলে গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দিতে হবে। সে জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষারও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
সারোয়ার তুষারের দাবি, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় এবং বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বজায় রাখতে চাইছে। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান। অন্যথায় বিরোধী আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করা, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।