
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ও আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় আয়োজক কমিটি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আয়োজক কমিটি জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি থেমে নেই। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা ও আল খোবার শহরে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে এশিয়ান কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রতিযোগিতা মহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের কারণে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে ঘরোয়া ফুটবল লিগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসহ কিছু ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে এশিয়ান কাপ আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, টুর্নামেন্টের বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নভেম্বরের শেষ নাগাদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে টুর্নামেন্ট এক বছর পিছিয়ে ২০২৮ সালে আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
আয়োজক কমিটি প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কথা জানালেও টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করতে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও এএফসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
ফলে ২০২৭ এশিয়ান কাপ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, নাকি নিরাপত্তার কারণে সূচিতে পরিবর্তন আসবে—তা জানতে পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি ও এএফসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।