
দেশের ছয় জেলার ৫৮৩ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমিকদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অনুদান। শ্রমিকদের আর্থিক ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। শ্রমিকরা সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ জমা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের প্রাপ্য অর্থ ফাউন্ডেশনে জমা দিত না। বর্তমানে সেই বকেয়া অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং আদায় করা অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।
শিল্পকারখানার উৎপাদন ও আয় বাড়লে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ জন্য রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কলকারখানার কার্যক্রম সচল রাখা এবং মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। উৎপাদন ও আয়ের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কলকারখানায় কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে তা শ্রম পরিদর্শকদের জানাতে হবে। কোনো প্ররোচনায় পড়ে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার জন্যও তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কোনো সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই সরকারকে জানানো হলে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এতে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যাবে এবং রাজপথে নামার প্রয়োজন কমবে।
শ্রমিকদের সহযোগিতা ও কারখানার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আগামী দিনে অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শ্রমমন্ত্রী।
শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানরা যেন আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ ইরতিজা আহসান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ শ্রম মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।