
জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং সেগুলোর সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, প্রকল্প এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষ এর সুফল পেতে পারেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের উন্নয়নে জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
প্রকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাতে মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ পরিবহনসেবার সুবিধা পেতে পারতেন।
এ ছাড়া হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশি।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে বাস্তবায়নাধীন ‘আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি)’ এবং ‘সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসসিআরডিপি)’-এর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনাধীন ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু)’-এর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়েও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার গৃহীত ও সম্পন্ন বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী।
দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।