
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের দুই নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ইরান ও আইআরজিসির ক্ষতি করার সক্ষমতা সীমিত করতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ইরান সরকারের পক্ষে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা কিংবা এসব কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটিশ সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এবং আরও কয়েকটি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে মোট ২৯টি দেশ অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্য দেশের ভূখণ্ডে কাউকে হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, হয়রানি করা, ক্ষতিসাধন করা কিংবা জোরপূর্বক কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক বলেও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী মুসাভি দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্তে সহযোগিতা করতেও তেহরান প্রস্তুত বলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ফলে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে এ ঘটনা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং তেহরানের অস্বীকৃতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।