
নগর পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মৃত্যুজনিত ঝুঁকি ভাতা হিসেবে চার লাখ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্মীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪২০টি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব উপকরণের মধ্যে রয়েছে সেফটি গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভস, হেলমেট, সেফটি গগলস, ফার্স্ট এইড বক্স, ওয়ার্নিং কোন, কশন ফ্লোর সাইন এবং হাই-ভিজিবিলিটি ভেস্ট।
ডিএসসিসির উদ্যোগে এসব সরঞ্জাম কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী দিতে সহযোগিতা করায় হারপিক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করেন প্রশাসক।
নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ডাস্টবিনে বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলে নগরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাগরিক সেবাসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক করতে উত্তর শাহজাহানপুরে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শুরু করেছে ডিএসসিসি।
সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।
বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গতিশীল হবে বলে আশা করছে সিটি কর্পোরেশন।
ডিএসসিসির উদ্যোগে এর আগে কলাবাগান, পুরান এলিফ্যান্ট রোডের সবজি বাগান, মালিবাগ এবং বুয়েট-সংলগ্ন পলাশী এলাকার বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।