প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 7, 2026 ইং
ফুটবল ঈশ্বরের প্রতি প্রতিপক্ষেরও অন্তহীন ভালোবাসা

২০১৪ সালের মারাকানা স্টেডিয়াম। ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়ার সাথে সাথে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বুকফাটা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। ফাইনাল বাঁশি বাজার পর বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের মাথায় সবার আগে যাঁর কথা এসেছিল, তিনি আর কেউ নন—লিওনেল মেসি।
সেদিন সবাই কেবল আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় ছিল না, সবাই চেয়েছিল মেসির হাতে সেই অধরা ট্রফিটা উঠুক। জার্মানির বিপক্ষে পুরো মাঠে যেন ১১ জন আর্জেন্টাইন খেলেনি, মেসি লড়েছিলেন একাই পুরো দলের হয়ে। নিজের কাঁধে পুরো দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন টেনে নিয়ে তিনি দলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন ফাইনালের মঞ্চে।
ম্যাচ শেষে শোয়াইনস্টাইগার যখন মুষড়ে পড়া মেসির কাছে গেলেন, মেসির বিষণ্ণ মুখখানা দেখে জার্মান তারকার বুকটাও কেঁপে উঠেছিল। তিনি পরম মমতায় মেসিকে বলেছিলেন:
"মেসি, তুমি তোমার সাধ্যের সবটুকু করেছ; আর্জেন্টিনা তোমাকে নিয়ে গর্বিত। মন খারাপ কোরো না।"
প্রজন্মান্তরেও বদলায়নি যে চিত্র
সময়ের স্রোতে ২০১৪ থেকে ২০২৬—বছরগুলো বদলে গেছে, কিন্তু ফুটবলের এই চিরন্তন দৃশ্যপটে এতটুকুও মরচে ধরেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসির মলিন ও ক্লান্ত চেহারা দেখে গোল উৎসব থামিয়ে থমকে দাঁড়ান তরুণ পাউ কুবার্সি। দৌড়ে এসে বুকে জড়িয়ে ধরেন লামিন ইয়ামাল। রামোসদের মতো প্রতিপক্ষ যোদ্ধারাও ছুটে আসেন সান্ত্বনার পরশ বুলিয়ে দিতে।
মেসি ফুটবল খেলায় কেবল একজন সাধারণ খেলোয়াড় নন; তিনি ফুটবলের এমন এক জীবন্ত সৌন্দর্য, যাকে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রাও পাগলের মতো ভালোবাসে। আর এই নিখাদ ভালোবাসা মেসি এমনিই পাননি, এটি তিনি তিল তিল করে নিজের সততা, জাদু এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে অর্জন করে নিয়েছেন।
ঠিক এ কারণেই তো মেসির হারের দিনেও বিজয়ী প্রতিপক্ষরা উদযাপনে মেতে ওঠার আগে থমকে দাঁড়ায়। যিনি নিজের জাদুকরি পায়ে শত কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, আজ সেই মানুষটার মুখের একটুখানি হাসির জন্য প্রতিপক্ষরাও অপেক্ষা করে থাকে অপলক দৃষ্টিতে।
ফুটবল শুধুই গোল বা ট্রফির হিসাব নয়; ফুটবল হলো মেসির মতো একজন মানুষের হৃদয়ের জাদুকরি অনুরণন, যা হার-জিতের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিপক্ষেরও হৃদয়ের মণিকোঠায় আসন গেড়ে বসে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com