প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং
এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না, কেপ ভার্দে কোথায়?

বিশ্বকাপ শেষ। স্বপ্নের দৌড়ও থেমে গেছে শেষ বত্রিশে। কিন্তু কেপ ভার্দের গল্পটা শেষ হয়নি। বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে নতুন এক অধ্যায়। আর্জেন্টিনার কাছে আজ শনিবার (৪ জুলাই) ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ছোট্ট দ্বীপদেশটি। কিন্তু এই হারেও মাথা নত করার কিছু নেই। কারণ, তারা এমন এক অর্জন নিয়ে ফিরছে, যা কোনো ট্রফির চেয়েও কম নয়।
কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপ থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হলো, এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না, কেপ ভার্দে কোথায়। শুধু এটিই আমাদের জন্য একটি ইতিহাস। আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছি।’
এই কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে পুরো কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রা। মাত্র কয়েক লাখ মানুষের ছোট্ট একটি দ্বীপদেশ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশই কেপ ভার্দেকে ঠিকমতো চিনত না। অনেকের কাছেই দেশটির নাম ছিল অপরিচিত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ছবিটা বদলে গেছে।
মাঠে সাহসী ফুটবল খেলেছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ভয় পায়নি। হার মেনেছে, কিন্তু কখনো আত্মসমর্পণ করেনি। শেষ বত্রিশে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই করেছে।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো কোনো পদক নয়, বরং একটি পরিচয়। এখন ফুটবলপ্রেমীরা জানে, কেপ ভার্দে শুধু আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপদেশ নয়। এটি এমন একটি দল, যারা সুযোগ পেলে বিশ্বের সেরাদের চোখে চোখ রেখে লড়তে পারে।
এই বিশ্বকাপে তারা কোটি মানুষের সম্মান কুড়িয়ে নিয়েছে। নিজেদের গল্প নিজেরাই লিখেছে। আর সেটিই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
টুর্নামেন্টের মাঝপথে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। আমাদের পরিবার অনেক ত্যাগ করেছে আমাদের জন্য। আমরা কেপ ভার্দের সব মানুষের জন্য খেলেছি। গোটা বিশ্বের সামনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু সবাই যোদ্ধা।’
মাঠে তার প্রমাণ প্রতি মুহূর্তে দিয়েছে কেপ ভার্দে। হারলেও তাই জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bddigitalnews24.com