প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 25, 2026 ইং
ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে ১ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা ইউএসজিএসের
ভেনেজুয়েলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে এবং হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ইউএসজিএসের দুর্যোগ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টি ছিল আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ইউএসজিএস। সংস্থাটি বলছে, মূল কম্পনের পর আরও আফটারশক বা পরাঘাত আঘাত হানতে পারে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অবকাঠামোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা ভূমিধস এবং মাটি তরলীকরণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মাটি তার স্থায়িত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে ভবন, রাস্তা এবং অন্যান্য স্থাপনা হঠাৎ ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, একাধিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরিপ চলছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা, আরুবা, বোনেয়ারসহ কয়েকটি উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে কিছু স্থানে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও কম্পন অনুভূত হয়েছে, যেখানে সতর্কতামূলকভাবে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।