
বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু মাঠের লড়াই নয়, মাঠের বাইরের সৃজনশীলতাও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভেন্যুতে ফিফার স্পনসরশিপ নীতির কারণে স্টেডিয়ামগুলোর বাণিজ্যিক নাম ও লোগো পরিবর্তন করতে হলেও কিছু ব্র্যান্ড অভিনব কৌশলে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী কেবল টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক স্পনসরদের ব্র্যান্ডিং প্রদর্শনের অনুমতি রয়েছে। ফলে যেসব স্টেডিয়ামের নাম কোনো অ-স্পনসর প্রতিষ্ঠানের নামে, সেগুলোর পরিচয় সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লিভাইস স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির মূল লোগো পুরোপুরি প্রদর্শন না করে এর স্বতন্ত্র নকশার কিছু অংশ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে লোগোর নিচের বাঁকানো নকশা দর্শকদের কাছে ব্র্যান্ডটিকে সহজেই চিনিয়ে দিচ্ছে। ফলে নাম না থাকলেও লোগোর পরিচিতি বজায় রয়েছে।
একই ধরনের সৃজনশীলতা দেখা গেছে বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামেও। বিশ্বকাপ চলাকালে এটি ‘বোস্টন স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হলেও রেজার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জিলেটের পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়নি। লোগোর ওপর শেভিং ফোমের মতো একটি নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের কাছে ব্র্যান্ডটির পরিচিত ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
ফিফার স্পনসরশিপ নীতির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামগুলোর বাণিজ্যিক পরিচয় সরিয়ে ফেলা হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ড সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছে। এই কৌশলগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
অনেক বিপণন বিশেষজ্ঞের মতে, ব্র্যান্ডিং সীমাবদ্ধতার এই পরিস্থিতি উল্টো কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ধরনের প্রচারণার সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি লোগো প্রদর্শনের পরিবর্তে সৃজনশীল নকশা ও পরিচিত উপাদান ব্যবহার করে তারা দর্শকদের মনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এমন ব্যতিক্রমী ব্র্যান্ডিং কৌশল দেখিয়ে জিলেট ও লিভাইস প্রমাণ করেছে, প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়েও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। অনেকের মতে, ফিফার বিধিনিষেধই শেষ পর্যন্ত এই ব্র্যান্ডগুলোর জন্য কার্যকর এবং আলোচিত বিপণন প্রচারণায় পরিণত হয়েছে।