
সাহিত্য, শিক্ষকতা এবং মাতৃত্ব—এই তিন পরিচয়কে সমান নিষ্ঠা ও ভালোবাসায় ধারণ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন মাহবুবা ফারুক। শিশু-কিশোর সাহিত্য, গান ও শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি তিনি পেয়েছেন ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা। তার কাছে এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং একজন মায়ের আজীবনের ত্যাগ ও ভালোবাসার সম্মান।
নেত্রকোনার বারহাট্টায় জন্ম নেওয়া মাহবুবা ফারুক ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। পারিবারিক উৎসাহে লেখালেখি ও আবৃত্তির সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সূচনা হলেও ১৯৭৯ সালে একটি পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে লিখে গেছেন তিনি।
শিশু-কিশোর সাহিত্যকে কেন্দ্র করে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৫টি। পাশাপাশি তিনি একজন গীতিকবি হিসেবেও পরিচিত। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে তার লেখা একাধিক গান প্রচারিত হয়েছে। নাট্যরচনাতেও রয়েছে তার পদচারণা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন মাহবুবা ফারুক। দীর্ঘদিন রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন কখনও মায়ের মতো, আবার কখনও বড় বোনের মতো একজন অভিভাবক।
সম্প্রতি পাওয়া ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ধরনের স্বীকৃতিই আনন্দের হলেও এই সম্মাননা তার কাছে বিশেষ আবেগের। তার ভাষায়, একজন মায়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সন্তানের সাফল্য। সন্তান সফল হলেই একজন মা নিজেকে সফল মনে করেন।
মাতৃত্ব সম্পর্কে মাহবুবা ফারুকের দৃষ্টিভঙ্গি গভীর ও মানবিক। তিনি মনে করেন, কেবল সন্তান জন্ম দিলেই মা হওয়া সম্পূর্ণ হয় না; সন্তানকে সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যেই মাতৃত্বের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
তিনি জানান, পরিবার, শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তবে ধৈর্য, সময় ব্যবস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে একজন নারী একই সঙ্গে পরিবার ও কর্মজীবনে সফল হতে পারেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মানবিক মূল্যবোধকে নিজের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখেন মাহবুবা ফারুক। ভবিষ্যতেও পাঠকের ভালোবাসা নিয়ে লিখে যেতে চান তিনি। বর্তমানে নতুন কিশোর গল্পের বই নিয়েও কাজ করছেন।
নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সফলতার পথ লুকিয়ে আছে। তার মতে, শেখার মানসিকতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে টিকে থাকতে সহায়তা করে।