প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ৪০ হাজার গাছ লাগাবেন সমর্থকেরা
বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসাকে পরিবেশ সংরক্ষণের অঙ্গীকারে রূপ দিয়ে তারা শুরু করেছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
শনিবার বিকেলে উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রায় এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয় এবং সমর্থকদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলে দেশজুড়ে ৪০ হাজার গাছ রোপণ করা হবে। এই উদ্যোগকে বিশ্বকাপ উন্মাদনার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি অনন্য সংযোগ হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ এবং গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক পরিচালক মো. নুর নবী। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, তরুণদের পরিবেশের প্রতি আরও সচেতন করে তুলতে এবং সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার ইতিবাচক আবেগকে কাজে লাগিয়ে সুবর্ণচরসহ আশপাশের এলাকাকে আরও সবুজ করে তোলা।
বিতরণ করা চারাগুলোর মধ্যে ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, শজনে, আমলকী, ডালিম, বেল, নিম, অর্জুন, জারুল ও কৃষ্ণচূড়াসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির গাছ। প্রত্যেক সমর্থক সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন।
আয়োজক সংগঠন চন্দ্রকলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু বিশ্বকাপ নয়, বিয়ে, জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকীসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও তারা বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে থাকে। গত পাঁচ বছরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারগুলোর মাঝেও প্রায় দুই হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তাদের সংগঠনের উদ্যোগে দেশজুড়ে আরও ৪০ হাজার গাছ লাগানো হবে। সমর্থকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।