
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক আর নেই। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ৮টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে সম্পন্ন হবে।
আবদুস সাদেক শুধু বাংলাদেশের নয়, অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলেরও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ইউরোপ সফরে জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখেন।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লি.) তিনি ছিলেন প্রথম ফুটবল ও হকি অধিনায়ক। স্বাধীনতার পরও ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর অবদান অব্যাহত থাকে। ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে নেতৃত্ব দেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আবদুস সাদেক কোচ ও সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি আবাহনীর প্রশিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেই মৌসুমে দলটি কোনো ম্যাচে পরাজিত না হয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস গড়ে।
পরবর্তীতে তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৮৩–১৯৮৫)। তাঁর প্রচেষ্টাতেই ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি আয়োজন সম্ভব হয়, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতীয় দল গঠনের শুরু থেকেই আবদুস সাদেক ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৭৭–৭৮ সালে প্রথম জাতীয় হকি দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে এক জয়, এক ড্র ও এক হার নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করে দলটি। ১৯৭৮ সালের এশিয়ান গেমসেও তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের হকি ও ফুটবল ইতিহাসে আবদুস সাদেকের অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।