
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এখন জমে উঠেছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে নকআউট পর্বের খুব কাছে পৌঁছে গেছে, আবার অনেক দল এখনো লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। তবে এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন ফরম্যাট চালু হওয়ায় নকআউটে ওঠার হিসাবও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রথমবারের মতো ১২টি গ্রুপ নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে। এছাড়া ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অনেক দলের ভাগ্য অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একই গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল। সমান পয়েন্ট পাওয়া দলগুলোর মধ্যে যে দল বেশি পয়েন্ট অর্জন করবে, তারা এগিয়ে থাকবে।
যদি মুখোমুখি লড়াইয়েও সমতা থাকে, তাহলে সেই ম্যাচগুলোর গোল ব্যবধান বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমাধান না হলে মুখোমুখি ম্যাচে কে বেশি গোল করেছে, সেটি দেখা হবে।
এই ধাপগুলোতেও যদি সমতা বজায় থাকে, তখন পুরো গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আনা হবে। সেক্ষেত্রে সব ম্যাচ মিলিয়ে গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং ফেয়ার প্লে পয়েন্ট হিসাব করা হবে। কম হলুদ ও লাল কার্ড পাওয়া দল ফেয়ার প্লে পয়েন্টে এগিয়ে থাকবে।
সবশেষেও যদি দুই দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফিফার সর্বশেষ প্রকাশিত বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আট দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রথমে দেখা হবে অর্জিত পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান, মোট গোলসংখ্যা এবং ফেয়ার প্লে পয়েন্ট। এসব সূচকে সমতা থাকলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
নতুন এই ফরম্যাটের কারণে অনেক দল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত নকআউটের আশা ধরে রাখতে পারছে। একই সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও হেড-টু-হেড রেকর্ড ও গোল ব্যবধানের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। ফলে প্রতিটি গোল এবং প্রতিটি ম্যাচের ফল এখন নকআউট পর্বের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।