
দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর অবশেষে লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘাত আপাতত থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে এ সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, দিনের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় সাময়িকভাবে হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আগে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ১৮ জন নিহত হন। অপরদিকে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহর একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, সব ফ্রন্টে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়—এমন অবস্থান ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই প্রেক্ষাপটেই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা জোরদার হয়।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে লেবাননে হঠাৎ করে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করায় বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় শুধু সীমান্ত পরিস্থিতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি থেকে যাবে।