
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাত প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনায় শামা ওবায়েদ ইসলাম নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। এ ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের জন্য চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি। পাশাপাশি দ্রুত ও টেকসই সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।