
ফিফা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে বাবা-ছেলের অংশগ্রহণের বেশ কয়েকটি উদাহরণ থাকলেও মা-ছেলের একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলার ঘটনা কখনও দেখা যায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের টাইলার বিন্দন ও তার মা জেনি বিন্দন।
নিউজিল্যান্ডের তরুণ ডিফেন্ডার টাইলার বিন্দন ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এই অর্জন কেবল তাদের পরিবারের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি অনন্য মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
টাইলারের মা জেনি বিন্দন নিউজিল্যান্ড নারী ফুটবলের অন্যতম পরিচিত নাম। গোলরক্ষক হিসেবে তিনি ২০০৭ ও ২০১১ ফিফা নারী বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাশাপাশি ২০০৮ ও ২০১২ অলিম্পিক গেমসেও নিউজিল্যান্ডের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০০৪ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের জার্সিতে মোট ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন জেনি।
অন্যদিকে ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া টাইলার বিন্দনের আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা শুরু হয় ২০২৩ সালে। অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় দলের আস্থা অর্জন করে তিনি জায়গা করে নেন ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। এবারের আসরই তার প্রথম বিশ্বকাপ, আর সেই মঞ্চেই তিনি গড়েছেন এক বিরল ইতিহাস।
বিশ্বকাপে অভিষেকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন টাইলার। তিনি জানান, দেশের হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মা-ছেলে জুটি হিসেবে মায়ের সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।
টাইলারের ক্রীড়া প্রতিভার পেছনে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্যও। তার বাবা গ্র্যান্ট বিন্দনও ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ। তিনি নিউজিল্যান্ডের ভলিবল জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনা যেমন বিরল, তেমনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মা-ছেলের এই অনন্য অর্জন আরও বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। টাইলার ও জেনি বিন্দনের এই কীর্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।