
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক শান্তি উদ্যোগের পরও দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বুধবার (১৭ জুন) নাবাতিয়েহ, কফর তেবনিত ও আনসারিয়েহসহ কয়েকটি এলাকায় চালানো হামলার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহর আল-ফাওকা এলাকা এবং কফর তেবনিতের পূর্ব উপকণ্ঠে আঘাত হানে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের আনসারিয়েহ শহরে একটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অবসানে ঘোষিত শান্তি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও হামলার এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা ঘোষণার পর লেবাননে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি থেমে যায়নি। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনই ঘরে ফেরার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
মার্চ মাসের শুরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালানোর পর সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনা করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, লেবাননসহ দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
এদিকে হিজবুল্লাহ মঙ্গলবারের পর থেকে নতুন কোনো হামলার দায় স্বীকার করেনি। সংগঠনটির নেতা নাইম কাসেমের বক্তব্যের দিকেও নজর রাখছে বিশ্লেষকরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮২৬ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।