
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর কাছে যখন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তখন ইরানকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা বাস্তবসম্মত নয়।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সংঘাত বন্ধে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কিছু উপদেষ্টা ইরানের সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ইসরাইলের মতো দেশগুলোর কাছে যখন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তখন একই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের কাছেও এমন সক্ষমতা থাকা অস্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূল সমস্যা নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল পরমাণু কর্মসূচি। তাই আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেই খাতেই।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করেছে। দেশটির নেতৃত্ব শুরু থেকেই জানিয়ে আসছিল, কোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিতে হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার মতে, অবশিষ্ট অস্ত্রভাণ্ডারের অনেকটাই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং তা সহজে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল ও উপসাগরীয় মিত্রদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।