প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 18, 2026 ইং
বাবা মানে জমে থাকা ভালোবাসার ঋণ
বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিনের, প্রতিক্ষণের। বিশেষ কোনো দিনের অপেক্ষা ছাড়াই এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে নিঃশব্দ যত্ন আর ত্যাগের মাধ্যমে। তবে প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের ৫২টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়, যা এবারে পড়েছে ২১ জুন।
বাবা দিবসের ইতিহাস ঘুরে যায় ১৯০৭ সালের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩৬২ জন শ্রমিক প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বাবা। এই ঘটনায় প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়। পরের বছর ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় নিহতদের স্মরণে প্রথমবারের মতো বাবাদের সম্মান জানিয়ে আয়োজন করা হয় একটি বিশেষ প্রার্থনাসভা, যা বাবা দিবসের সূচনার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রতিটি সন্তানের জীবনে বাবা এক অদৃশ্য ছায়া, যিনি সব আবদার পূরণ করেন নীরবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য উপহার নির্বাচন করাও অনেকের কাছে কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ছোট ছোট চিন্তা ও ভালোবাসাই বাবাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।
আজকের ডিজিটাল যুগে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও শপিং প্ল্যাটফর্মগুলো বাবা দিবস উদযাপনকে আরও সহজ করে তুলেছে। প্রিয় খাবার, বই, গ্যাজেট, চশমা, ফটোফ্রেম কিংবা ব্যক্তিগত কোনো উপহার সহজেই অর্ডার করা যায়। চাইলে বাবার জন্য তার পছন্দের কোনো খাবার রান্না করে পরিবেশন করাও হতে পারে বিশেষ উপহার।
এছাড়া বাবার সঙ্গে সময় কাটানোও সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হিসেবে ধরা যায়। তার সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়া, সমুদ্রপাড়ে বসে কথা বলা বা তার পছন্দের পুরোনো সিনেমা দেখা—এসব মুহূর্ত বাবার জন্য হয়ে উঠতে পারে জীবনের সেরা স্মৃতি।
সন্তানের প্রতিটি ধাপে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু অভিভাবক নন, বরং জীবনের প্রথম ‘সুপারহিরো’। তাই বাবা দিবসে ছোট্ট একটি চেষ্টা হলেও বাবার মুখে হাসি ফোটানোই হতে পারে সবচেয়ে বড় অর্জন।