
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। গত ৯ জুন তারা তাদের শক্তিশালী ‘মিথোস’ শ্রেণির উন্নত মডেলকে প্রথমবারের মতো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লদ ফেবল-৫’।
এর আগে এই প্রযুক্তি সীমিতভাবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এবার শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোচনায় আসে ‘ক্লদ মিথোস’ মডেল, যা মূলত সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্তের জন্য তৈরি করা হয়। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের মূল্যায়নে এটি জটিল হ্যাকিং-সম্পর্কিত কাজে ৭৩ শতাংশ সফলতা দেখায়, যা আগের এআই মডেলগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
পরবর্তীতে ‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’ নামের একটি নিয়ন্ত্রিত কর্মসূচির মাধ্যমে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও ক্রাউডস্ট্রাইকসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সীমিতভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সুযোগ পায়। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার দুর্বলতা শনাক্ত করা হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক একই সঙ্গে দুটি মডেল ঘোষণা করেছে—‘ক্লদ ফেবল-৫’ এবং ‘ক্লদ মিথোস-৫’। দুইটির মূল কাঠামো একই হলেও পার্থক্য হলো নিরাপত্তা স্তরে। ফেবল-৫ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত, আর মিথোস-৫ সীমিতভাবে গবেষক ও অনুমোদিত অংশীদারদের জন্য সংরক্ষিত।
পারফরম্যান্সের দিক থেকে ফেবল-৫ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এটি কোডিং বেঞ্চমার্কে উচ্চ স্কোর অর্জন করেছে এবং বিশাল কোডবেস দ্রুত বিশ্লেষণ ও রূপান্তর করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রশ্নগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য নিরাপদ মডেলে পাঠানো হয় এবং ৩০ দিনের ডেটা সংরক্ষণ নীতি চালু রাখা হয়েছে, যা শুধুমাত্র নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হবে।
অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কিছু গ্রাহক বিনামূল্যে এই মডেল ব্যবহার করতে পারবেন, এরপর থেকে ক্রেডিটভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এআইকে নিরাপত্তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ এআই শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।