
২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের পর প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ।
স্কালোনি বলেন, মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। গত দুই দশক ধরে তিনি বিশ্ব ফুটবলে যা করে চলেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তার মতে, ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এত দীর্ঘ সময় ধরে একই মান বজায় রাখতে পেরেছেন।
আর্জেন্টিনা কোচ জানান, ম্যাচ শেষে তিনি সরাসরি মেসির কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, তিনি মেসিকে বলেছেন যে তাকে খুব ভালোবাসেন। কারণ মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি কোটি মানুষের আবেগ ও অনুপ্রেরণার নাম।
স্কালোনির ভাষায়, ফুটবলপ্রেমী সবাই মেসিকে মাঠে দেখতে চায়। তিনি শুধু আর্জেন্টিনার নন, পুরো ফুটবল বিশ্বের সম্পদ। মেসি মাঠে যে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও জাদু ছড়িয়ে দেন, তা প্রতিবারই দর্শকদের নতুন করে মুগ্ধ করে।
তবে বড় জয়ের পরও আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে সহজ বলতে রাজি নন স্কালোনি। তার মতে, প্রতিপক্ষ দলটি সংগঠিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে। স্কোরলাইন ৩-০ হলেও মাঠের লড়াই ছিল অনেক বেশি কঠিন। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী ফুটবল খেলেই জয় নিশ্চিত করেছে।
বিশেষ করে লাউতারো মার্টিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার পরিশ্রমের প্রশংসা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, দলের ভারসাম্য ধরে রাখতে এই দুই ফুটবলারের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের স্মৃতিও স্পর্শ করেন স্কালোনি। তিনি স্বীকার করেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সবসময়ই কিছুটা চাপ কাজ করে। তবে এই জয় দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ছন্দে খেলতে সাহায্য করবে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচ নিয়ে অতীতের নেতিবাচক পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, এসব কেবল সংখ্যা। তার বিশ্বাস, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম এবং শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি, যার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক এবং রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স আবারও ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছে—মেসির জাদু এখনো ফুরিয়ে যায়নি।