
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বলরুম নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৬০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
শুরুতে ট্রাম্প এই বলরুম নির্মাণে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছিলেন। পরে সেই হিসাব বেড়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে নতুন প্রাক্কলনে দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট ব্যয় ৬০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ক্লার্ক কনস্ট্রাকশন প্রশাসনের জন্য একটি বিস্তারিত ব্যয় পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সেখানে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ৬০০ মিলিয়ন ডলার খরচের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ব্যক্তিগত দাতারা বহন করছেন। মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল বলেন, নতুন বলরুমটি ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক একটি অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে কাজ করবে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় পরিসরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজনীয়। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে একটি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর প্রকল্পটির যৌক্তিকতা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের সময় এমন বিলাসবহুল প্রকল্প অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত নয়। তারা করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও কিছু মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, জ্বালানি মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ব্যয়বহুল প্রকল্প আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য আগের মতোই দাবি করে আসছেন যে, প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ এবং এর অর্থায়নে ব্যক্তিগত দাতা ও তার নিজের অবদানই প্রধান ভূমিকা রাখছে।