
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রত্যাশা এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫৯ মিনিটে ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০২ ডলার বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮১ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে এর মূল্য নেমে আসে ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে, যা গত ৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডব্লিউটিআই ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২২ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৫৩ ডলারে লেনদেন হয়। দিনের এক পর্যায়ে এর দাম ৭৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে যায়, যা ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ কমে আসা বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। অতীতে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের দাম বেড়ে গেলেও এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দাম কমাতে সহায়তা করেছে।
বিশ্ববাজারে চাপ আরও বাড়ে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পর একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি সমঝোতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর বাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।