
কাতার বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এখনও সতেজ। চার বছর আগে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। নতুন বিশ্বকাপ মিশনে এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘জে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী দল আলজেরিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে বাড়তি আগ্রহের অন্যতম কারণ লিওনেল মেসি। মাঠে নামলেই বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়বেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে এটি হবে তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বিশ্বকাপে রেকর্ড ২৭তম উপস্থিতি।
টুর্নামেন্টের আগে হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগলেও এখন নিজেকে প্রস্তুত ঘোষণা করেছেন মেসি। ফলে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পুরোপুরি দুশ্চিন্তামুক্ত নয় দলটি। কাফ ইনজুরির কারণে লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো প্রথম ম্যাচে খেলতে পারছেন না। এছাড়া ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর ম্যাচ ফিটনেস নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুখবর হলো, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আঙুলের চোট কাটিয়ে আবারও পোস্টের নিচে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভরসা তাদের অভিজ্ঞ স্কোয়াড। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ জন সদস্য এবারও দলে রয়েছেন। যদিও গড় বয়স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কিছু বিশ্লেষক দলটির ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
অতীত পরিসংখ্যান বলছে, বড় টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা অনেক সময় ধীরগতিতে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়। সৌদি আরবের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করা কাতার বিশ্বকাপই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এবার অবশ্য গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক প্রতিপক্ষ পাওয়ায় ধাপে ধাপে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ রয়েছে কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির হাতে।
তবে আলজেরিয়াকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা আফ্রিকান দলটি শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট নয়, বরং নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের নেতৃত্বে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ে তুলেছে তারা।
আলজেরিয়ার অন্যতম আকর্ষণ তরুণ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম মাজা। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার ইতোমধ্যে সমর্থকদের কাছে ‘মাজাদোনা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি গোলস্কোরিং দক্ষতার জন্য পরিচিত মোহাম্মদ আমৌরা এবং ডিফেন্ডার রায়ান আইত-নুরিও আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের পক্ষেই কথা বলছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চমকের অভাব নেই। তাই মেসির রেকর্ড গড়ার রাতে সহজ জয় মিলবে, নাকি আলজেরিয়া নতুন গল্প লিখবে—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।